Header Ads

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার চরাঞ্চলের মিষ্টি বাঙ্গির কদর বেড়েছে সারাদেশে


 নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার চরাঞ্চলের মিষ্টি বাঙ্গির কদর বেড়েছে সারাদেশে। ফলে একদিকে বেড়েছে বাঙ্গির উৎপাদন, অপরদিকে বেড়েছে মৌসুমি শ্রমিকের কর্মসংস্থান। এ সুবাদে নরসিংদীর সাগরকলা, লটকট ও বোম্বাই লেবুর পাশাপাশি এবার বাঙ্গি দিয়ে পরিচিত হচ্ছে নরসিংদী। মূলত মৌসুমি ফল হিসেবে নরসিংদীতে চাষাবাদ হয়ে থাকে বাঙ্গি।

গ্রীষ্মের অন্যতম ফল বাঙ্গি। এবার গ্রীষ্মের আগেই নরসিংদীর চরাঞ্চলের মাঠে শোভা পেয়েছে ফলটি। এ অঞ্চলের বাঙ্গি আকারে বড়, দেখতে সুন্দর ও সুস্বাদু হওয়ায় রাজধানীসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলায় ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তুলনামূলক অল্প শ্রম ও অল্প খরচে অধিক মুনাফার আশায় প্রতি বছর বাড়ছে বাঙ্গির চাষ। ফলে এ অঞ্চলে হচ্ছে মৌসুমি কর্মসংস্থা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে চরাঞ্চলের প্রায় ৪০ হেক্টর জমিতে বাঙ্গি চাষাবাদ হয়েছে, যা গত বছর ছিল ৩৬ হেক্টর। এ বছর বাঙ্গি চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে হেক্টর প্রতি ১৮ থেকে ২০ মেট্রিক টন। উপজেলার চরাঞ্চল বেষ্টিত বাঁশগাড়ি, শ্রীনগর, চরমধুয়া ও মির্জাচর ইউনিয়নের প্রায় সব জমিতে বাঙ্গি চাষ হয়ে থাকে। এর মধ্যে বাঁশগাড়ি ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি বাঙ্গির আবাদ হয়ে আসছে।বাঁশগাড়ি ইউনিয়নের মধ্যনগর ও চান্দেরকান্দি গ্রামের কৃষকরা তাদের জমিতে বাণিজ্যিকভাবে বাঙ্গি চাষ করেন। এসব চরের উৎপাদিত বাঙ্গির আকার বড় ও উজ্জ্বল হলুদ হয়ে থাকে।বাঁশগাড়ি ও শ্রীনগর ইউনিয়নের মধ্যবর্তী স্থানে পলি বিস্তৃত চর রয়েছে। এ চরের ছড়িয়ে রয়েছে বাঙ্গিগাছের সবুজ লতা। লতার ফাঁকে ফাঁকে কাঁচা-পাকা বাঙ্গি শোভা পাচ্ছে। জমি থেকেই বাঙ্গি কিনতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা আসেন।বাঙ্গি চাষিরা জানান, আগে নিজেদের খাওয়ার জন্য অল্প জমিতে বাঙ্গি চাষ করা হতো। পরবর্তী সময়ে এটি লাভ জনক হওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ শুরু করেন এখানকার কৃষকরা। এ কারণে চরের প্রায় অর্ধেক জমিতে বাঙ্গি চাষাবাদ হচ্ছে।

কৃষকরা আরও জানান, বাঙ্গি চাষাবাদে খরচ তুলনামূলক কম। রসুন ও বাঙ্গি একসঙ্গে চাষ করা যায়। রসুনের জন্য সার দেয়ায় বাঙ্গির জন্য আলাদা করে সার লাগে না। তাই বীজ ও ওষুধসহ দুই বিঘা জমিতে ৬০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে একেকজন কৃষকের। আশা করা যায়, আড়াই লাখেরও বেশি টাকার ফল বিক্রি করতে পারবেন তারা।

মৌসুমি শ্রমিকরা জানান, বাঙ্গির পুরা মৌসুমে এখানের কেউ বসে নেই। সবাই কিছু না কিছু করে জীবিকা চালায়। জমি থেকে প্রতিটি বাঙ্গি ঘাটে নৌকায় বা ভ্যানে বোঝাই করে দিলে পাঁচ টাকা পায়। এতে প্রতিদিন গড়ে ৮০০ থেকে এক হাজার টাকা মজুরি পায় একেকজন শ্রমিক। আকার ভেদে পাইকারি হিসেবে ১০০ বাঙ্গি তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রি হয়।

বাঙ্গি চাষ সম্প্রসারণে সার্বক্ষণিক মাঠ পরিদর্শনসহ কৃষকদের নানা পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি অফিস। বর্তমানে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বীজ কৃষকরা ব্যবহার করছেন। বাঙ্গি চাষে কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও ভালো বীজ সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন রায়পুরা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বনি আমিন খান।

No comments

কপিরাইট @সময় নিউজ ২৪ -২০১৮ এই সাইটের কোন সংবাদ ও ছবি কপিরাইট করা সম্পূর্ণ বেআইনি . Powered by Blogger.